অনেকেই বলেন যেকোনও লেখক-লেখিকাদের অভিজ্ঞতা, কল্পনা,
ইচ্ছাশক্তি, এসমস্ত কিছুর আত্মপ্রকাশ ঘটে তাদের লেখা গল্প ও কবিতার মধ্যে দিয়ে। বিগত বছরে করোনা মহামারীর প্রভাবে বেশ খানিকটা সময় গৃহবন্দী হয়ে কাটাতে হয়েছে আমাদের। এমন সময়ে বাড়ির আলমারি ভর্তি সংগৃহীত গোয়েন্দা গল্প থেকে ভুতের গল্প, প্রেমের গল্প থেকে ছোটদের কমিক্স ও নানাপ্রকার গল্পের বই, প্রিয় লেখকদের লেখা কবিতার বইগুলোর পাতা ওল্টাতে শুরু করি। লকডাউন পিরিয়ডে দেখা করাটা অসম্ভব হলেও বন্ধুদের মধ্যে দূরভাষের দ্বারা সে সমস্ত গল্পের সারমর্ম আলোচনা হতো। একান থেকেই কিছু করতে চাওয়ার পরিকল্পনা শুরু হয়। ঠিক হয় ডিজিটাল একটা প্ল্যাটফর্ম গঠনের। যা পাঠক ও লেখকদের মধ্যে যোগাযোগের একটা সেতু হয়ে উঠবে। মূলত তার তাগিদেই জন্ম এই ' বই কুটির কলকাতা '-র। আসলে আমাদের আশেপাশে এমন অনেক লেখক বন্ধু রয়েছেন যাদের অনেক লেখাই এখনও পাঠকদের অগোচরে খাতা বন্দি অবস্থায় পড়ে রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য ছিল তাদের কাছে পৌঁছিয়ে তাদের সেই লেখাগুলিকে পাঠকদের সামনে উপস্থাপন করার। গত বছর আগষ্টে পথ চলতে শুরু করেছিল ‘বই কুটির কলকাতা ’। আমাদের প্রথম প্রয়াস একটা ফেসবুক পেজ। আপনাদের বললে হয়তো বিশ্বাস করবেন না হয়তো, সেই গৃহবন্দি অবস্থাতেও আমাদের উত্তেজনা ছিল কৈশরিক। একে একে বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ করা, লেখা চাওয়া ও কি পদ্ধতিতে লেখা দিলে আমাদের পোস্ট করতে সুবিধে হবে তার রূপরেখা তৈরি করা, এসমস্ত কিছু যেন এক নতুন জগৎ গড়ার সমান। আসলে বর্তমান সময়ের ব্যস্ততা ও প্রতিযোগিতার সময়ে আমরা বই পড়া প্রায় ভুলতেই বসেছি আর প্রযুক্তি আমাদের অন্যতম অবলম্বন হওয়ায় তাকে ছাড়া একটুও চলা প্রায় অসম্ভব। তাই আমাদের প্রচেষ্টা ছিল উন্নত প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে কিভাবে পাঠকদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা যায়, যাতে এই প্রজন্ম ও পরবর্তী প্রজন্মের লেখক-পাঠকদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় থাকে। কথায় বলেনা- 'যদি কোনো ভালো কাজ করতে চাও তবে তোমার অজান্তেই কিছু ভালো মানুষ ঠিক জোগাড় হয়ে যাবে'। আমাদেরও তাই পরিকল্পনা ও উদ্ভাবনের সাথে সাথে আশেপাশে বন্ধুদের নানান সুপ্ত প্রতিভার চোখে পড়তে লাগল এবং অনুভব করতে লাগলাম তাদের আগ্রহ, সেখান থেকেই তৈরি হয়ে গেল আমাদের ছোট ও বন্ধু সমৃদ্ধ একটি পরিবার, জার নাম ‘ব কু ক পরিবার’। আমারা সত্যিই ভাগ্যবান যে, এই ডিজিটাল ফরম্যাটে আমাদের বিচরণ প্রথম ও অজানা হওয়া সত্ত্বেও আমাদের সদস্যদের মিলিত প্রচেষ্টায় এবং আপনাদের মত পাঠকদের অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতায় আজ এক বছরের মধ্যে আমরা শুধু মাত্র ফেসবুক পেজ থেকে এক অসামান্য ওয়েবসাইট গড়ে তুলতে সমর্থ হয়েছি। আর তারই ওপর ভর করে আমাদের প্রথম প্রচেষ্টায় ৬ই অক্টোবর, ২০২১ বুধবার, মহালয়ার দিন আত্মপ্রকাশ করছে – ‘বই কুটির কলকাতা’র শারদ সংখ্যা ১৪২৮। যা আপনাদের মত সুন্দর পাঠকদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। শুধু মাত্র আঙুলের একটা ছোট্ট চাপেই একটি লিঙ্কের মাধ্যমেই খুলে যাবে আপনাদের পুজোর উপহার, ‘বই কুটির কলকাতা’র শারদ সংখ্যা ১৪২৮ বইটি। আমাদের এই পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন সম্পূর্ণটাই লেখক-লেখিকা ও পাঠকদের জন্য, আমরা ‘বই কুটির কলকাতা’ শুধু মাত্র সেতুবন্ধনের কাজ টুকুই করছি। আমাদের আশা পরবর্তী সময়ে আপনারা আমাদের পাশে থাকবেন ও আরও বেশি উৎসাহ প্রদান করবেন। আমাদের এই ‘বই কুটির কলকাতা’য় আপনারা কবিতা, ছোটো গল্প, গল্প, অনুভূতি, উপন্যাস, অন্যান্য এবং সব থেকে আকর্ষণীয় ‘বই কুটির শারদ সংখ্যা’র স্বাদ গ্রহণ করতে পারবেন। আপনাদের আনন্দ দিয়েই আমাদের সুখ। আপনারাও সঙ্গে থাকবেন এটাই কাম্য।